• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঘুরে দাঁড়াক বিশ্ব, বছরটা হোক সতেজ সুন্দরময়

রিপোর্টার নাম :
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১
নতুন বছরের শুভেচ্ছা

যা কিছু জীর্ণ, যা কিছু অবরুদ্ধ করেছে সময়, ভেসে যাক নতুনের আহ্বানে। আজ ২০২১-এর প্রথম দিন। ২০২০ সালটি বাংলাদেশের জন্য হওয়ার কথা ছিল অন্যরকম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের আগাম প্রস্তুতি, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে সামনের দিকে এগুনোর বছর। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। উৎসব উদযাপন ও আয়োজনের বছর মুহুর্তে পরিণত হয় অবরুদ্ধ এক বছরে। মহামারির ভয়াল ছোবল কোথাও কমছে কোথাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি নতুন বছরের সামনে দাঁড়িয়ে করণীয় নির্ধারণ, জীবন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় আশায় বুক বেঁধে বিশ্ববাসী প্রার্থনারত। শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও সকলে নতুন বছরটিকে তাই বরণ করে নিচ্ছে আশায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রিজার্ভ গড়ার লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি ২০২১ সালেই পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে ২০২১ সালেই। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২/৩টি প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির বছরও হবে ২০২১। তাদের মতে, আমাদের অর্থনীতি যেখানে চলে গেছে এবং শিল্পকারখানাগুলো করোনার ধাক্কা যেভাবে মোকাবিলা করেছে, তাতে নতুন বছরে শেয়ারবাজার নিয়েও বেশ আশা রাখা যায়।
২০২১-এ আরেক আশা- করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন। বাংলাদেশে জানুয়ারির মাঝামাঝি ভ্যাকসিন এসে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ভ্যাকসিনের আগমণ ও প্রয়োগ আগের বছরের ভোগান্তি কিছুটা কমাবে সেই প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হচ্ছে সম্ভাবনার বছরটি।
ব্র্যাকের প্রিভেন্টিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইনিশিয়েটিভ ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রকল্পের পরিচালক নবনীতা চৌধুরী মনে করেন, কোভিডে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধহয় বাড়িতে বেশি সময় থাকতে পারা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছর কোনও কাজ তো থেমে থাকেনি বরং দুর্যোগকালে কাজের চাপ ও গতি বাড়াতে হয়েছে। তবে, আমরা বুঝেছি, অনেক কাজ, বিশেষ করে অনেক মিটিং সামনাসামনি না করে ডিজিটাল প্লাটফর্মে করলে সময় বাঁচে, যানজট কমে, খরচ কমে। তাই আমি আশা করবো, ওয়ার্কিং/মিটিং/ ডিসকাসিং ফ্রম হোমের সংস্কৃতিটা আমরা ধরে রাখব। আমি আমাদের সংগঠন ব্র্যাকে দেখেছি সারাদেশে কর্মরত আমাদের প্রায় ১ লাখ কর্মীর সঙ্গে সংগঠনের নেতৃত্বসহ সকল পর্যায়ের যোগাযোগ এবং মতামত আদানপ্রদান আমরা আরো অনেক বেশি ঘনঘন এবং কার্যকরভাবে করতে পারছি প্রাযুক্তিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে। গতবছর বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত হয়েছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থের লেনদেন অবিশ্বাস্য পরিমাণে বেড়েছে। আমার মনে হচ্ছে ২০২১ সালে এর একটা বড় প্রভাব আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখব। বাড়ির কাজ, সন্তান লালন, বয়ষ্কদের যত্ন, রান্না, বাজার করা, অফিসের কাজ, শিশুদের অনলাইন ক্লাস; সবই প্রায় একা হাতে সামাল দিতে হচ্ছে কিনা নারীদের। ২০২১ সালে এ দিকে পুরুষও নজর দেবেন এবং কিছু কাজের পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন, এটাও আমার প্রত্যাশা।‘
২০২০ সালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাত হিসেবে শিক্ষাকে দেখছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা হয়তো অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবো, কিন্তু শিক্ষায় যে ক্ষতি হলো সেটা পূরণ করা যাবে কিনা সংশয় আছে। পুরো একটা প্রজন্ম ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হলো শ্রেণিকক্ষে পঠনের সুযোগ না পাওয়াটা।’
দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি আশা প্রকাশ করে বলেন, “পৃথিবী এপাশ-ওপাশ করে ফেলা করোনাকাল পার হয়ে মানুষ তার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসবে এই আশাবাদ নিয়ে আসছে ২০২১। ২০২০ সালের প্রথম দিনটিতেও মানুষ ভাবেনি যে তার চেনাজানা পৃথিবী আচানক বদলে যাবে। এত মৃত্যু, এত হতাশার ২০২০ সালকে যেন বিদায় দিতে পারলে বাঁচি আমরা। সে কারণেই ২০২১ নিয়ে মানুষ অনেক বেশি আশাবাদী। শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, বা করোনার টিকা পাওয়া যেতে পারে সে জন্য নয়, মানুষ এই অচলাবস্থা থেকে যে কোনও মূল্যে মুক্তি চাইছে। তবে যে পরিবর্তন ২০২০’কে স্থায়ী করে দিল তার অভিঘাত পৃথিবীকে বহুকাল বইতে হবে। এই মুহূর্তের জীবিত মানুষের জীবৎকালজুড়ে থাকবে ২০২০-এর কালোস্মৃতি। ফলে নতুন বছরকে নিয়ে আশাবাদের মাত্রাও হবে ভিন্ন ও নতুন। বাংলাদেশের কথাই যদি ধরি- এই করোনাকালেও দেশের অর্থনীতি শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছে। আসছে বছরে চাক্ষুস অনেক পরিবর্তনের ভেতর দিয়েও বাংলাদেশ যাবে। বেশক’টি বড় প্রকল্প শেষ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বলেই ২০২১ সালকে ঘিরে বাঙালির আরও দৃঢ় আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আশা করি, দেশের কুরাজনীতি আমাদের ‘লেট ডাউন’ করবে না। যেহেতু গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের কথা বলছি, তাই আশাবাদটি ইংরেজিতেই করলাম।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর