• বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মিয়ানমারে গুলির পরদিনও বিক্ষোভ

আন্তজার্তিক ডেস্ক
আপডেট সময় : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
মিয়ানমারে গুলির পরদিনও বিক্ষোভ

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার কঠোর দমননীতি সত্ত্বেও দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আজ বুধবার ফের রাজপথে নেমেছেন দেশটির বিক্ষোভকারীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গতকাল মঙ্গলবার ছিল সবচেয়ে সহিংস দিন। এদিন রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভে গুলি চালায় দেশটির পুলিশ।

গতকালের সহিংস ঘটনার পর আজ সকালেই নেপিডোর রাস্তায় নেমে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যুবনেতা এস্টার জে নাও বলেন, ‘আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময়ই যদি রক্তপাত হয়, তাহলে আমরা তাদের (সেনাবাহিনী) দেশটি দখল করতে দিলে আরও অনেক কিছুই হবে।’

গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের অসহযোগের ডাকে সাড়া দিয়ে শত শত সরকারি কর্মচারী রাজধানীতে মিছিল করেছেন। এতে যোগ দিয়েছেন চিকিৎসক, শিক্ষক, রেলকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গতকাল নেপিডোতে বিক্ষোভকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক বিক্ষোভকারীর অবস্থা গুরুতর। এক চিকিৎসক বলেছেন, এই বিক্ষোভকারীর মাথায় আঘাত রয়েছে। তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ। গুরুতর আহত এই বিক্ষোভকারী একজন নারী।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, এক্স-রে করে দেখা গেছে, এই নারী বিক্ষোভকারী গুলিতে আহত হয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, গতকালের ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে তাঁরা আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো ছাড়াও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ হয়। অন্যান্য স্থানের বিক্ষোভেও শক্তি প্রয়োগের খবর পাওয়া গেছে। সেসব জায়গায়ও বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পুলিশের আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশ আহত হয়েছে।

বিক্ষোভে শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎপর্যপূর্ণ পরিণতির মুখোমুখি করতে তারা কাজ করছে। মিয়ানমারকে করা সহায়তার বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘ক্ষমতা ত্যাগ, নির্বাচিত সরকার পুনর্বহাল, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে সব বাধা প্রত্যাহার ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা আবার আহ্বান জানাই।’

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রতিনিধি ওলা আল্মগ্রেন বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো দমনপীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের আটক-গ্রেপ্তার করেছে। তারা সু চির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে তাঁকে রিমান্ডে নিয়েছে।

মিয়ানমারে এই অভ্যুত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ গত নভেম্বরের নির্বাচন। এই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। এরপর পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ করছেন দেশটির মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাচ্ছে। তারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়ে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছে।

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। সবশেষ গতকাল বিক্ষোভে গুলি চালাল পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর