• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

‘জলবায়ু পরিবর্তন হাঙর হলে, পানি হাঙরের দাঁত’

রিপোর্টার নাম :
আপডেট সময় : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
Screenshot 2021 08 02 14 28 08 39

এবার আর কোনো অজুহাতে কাজ হবে না-পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি। তারপরও মানুষের বুঝতে এতো কষ্ট কেন? নাকি মানুষ বুঝতেই চায় না, প্রকৃতির কী বেহাল দশা হয়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তন হাঙর হলে, পানি হাঙরের দাঁত’

গেল কয়েক মাসে প্রকৃতি যে বৈরী রূপ নিয়েছে, এ রূপ আগে মানুষ দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে। বন্যায় ভাসছে চীন আর জার্মানি। প্রতিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন করে রেকর্ড ভাঙছে। পানিবাহিত যতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সবই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি সব পানির নিচে চলে যাচ্ছে।

আমেরিকান মেটেওরজিক্যাল সোসাইটির গবেষক জেমস পি ব্রুস বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন যদি শার্ক (হাঙর) হয়, পানি শার্কের (হাঙর) দাঁতের মতো কাজ করে। এখন শার্ক (হাঙর) সমুদ্রের ওপরে উঠে এসেছে, তাই আমরা এতো ভোগান্তিতে আছি।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে বিভিন্ন অঞ্চলের ভয়াবহ এ তাপদাহ মানুষেরই সৃষ্টি। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন প্রোজেক্ট বলছে, তাপদাহ এতো ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে মানুষের কার্বন নিঃসরণের কারণে। কারণ এ ধরনের তাপদাহ হাজার বছরে একবার হওয়ার কথা।

২০২১ সালের জুন মাস আমেরিকানদের জন্য রেকর্ড তাপদাহের মাস ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ৮০টির মতো দাবানল ছিল। ২০০০ সালের পর ১০টি বড় দাবানলের বছর ২০২১। এর কারণে যদি খরা হয়, খাদ্যপণ্যের দাম চলতি বছরই ৪০ শতাংশ বাড়বে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার সাক্ষী সারাবিশ্ব। জার্মানি বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। মারা গেছে অনেক মানুষ, আর্থিক ক্ষতি ৭০০ কোটি ডলার। চীনের বন্যা পরিস্থিতিও ভয়াবহ।

জলবায়ুর বর্তমান অবস্থা বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা আর ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে আর বেশি দেরি নেই। তাপদাহ মানেই পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে, অনেক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, ঋতুর পরিবর্তনের কোনো ধারাবাহিকতা থাকছে না। ফলাফল কোনো স্থানে অতিরিক্ত বৃ্ষ্টিপাত, আবার কোনো স্থানে বৃষ্টিই হচ্ছে না।

গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, চীনের মতো বৃহত্তম অর্থনীতির দেশসহ অন্তত ৫৭টি দেশ অতিরিক্ত পানি সংকটে পড়বে। এরমধ্যে আছে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা আর মধ্য এশিয়াও। ২০৪০ সালে পানি স্বল্পতার ভয়াবহতা দেখবে এ দেশগুলো।

গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন আর  সারাবিশ্বের প্রাকৃতিক দুর্যোগের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে,  চলতি বছর যে পরিমাণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, তা গেল ৫০ বছর আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি। এরমধ্যে মানুষ পৃথিবীকে উষ্ণ করার কারণে খরা, বন্যা আর  তাপদাহ হচ্ছে। গ্রিন হাউস গ্যাসের জন্য সারাবছর ঠান্ডা থাকা সাইবেরিয়ার তাপমাত্রা বেড়েছে।

পাকিস্তানের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য তো একই বছরে খরা, টর্নেডো আর অতিরিক্ত শীত মৌসুম পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষ বুঝতে পারছে পানির মধ্য দিয়ে, কোথাও অতিবৃষ্টি আর কোথাও খরার মধ্য দিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শীত মৌসুমে হালকা তুষারপাত হয়, বসন্তে হালকা বৃষ্টি। কিন্তু এ বছরের গ্রীষ্ম তো ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য আগুনের মৌসুম এনে দিয়েছে। তাপদাহের কারণে খরা আর ভয়াবহ দাবনল দেখেছে ক্যালিফোর্নিয়া। মাটির নিচেও পর্যাপ্ত পানি নেই যা দিয়ে কৃষিকাজ করবেন এখানকার কৃষক। পানির জন্য অন্য অঙ্গরাজ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ক্যালিফোর্নিয়া। গেল কয়েকবছরের দাবানলে নষ্ট হয়েছে অনেক কৃষিজমি।

বরফে ঘেরা পৃথিবীর মেরু অঞ্চল অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে দ্রুত বিশ্ব উষ্ণায়নের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গেল ৫০ বছরে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এখানকার তাপমাত্রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর